সন্তানের জন্য ৪৩ বছর পুরুষ সেজে রইলেন মা, “দেশের সেরা মায়ের” সম্মান দিলেন সরকার

আচ্ছা আপনি কি মনে করেন জন্ম দিলে মা হওয়া যায়! না হতে গেলে অনেক দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করতে হয়। জন্ম দেওয়ার পর;

সেই শিশুকে লালন-পালন করা তাকে মানুষ করে তোলার দায়িত্ব বর্তায় মায়ের উপর মিশরে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা শুনলে বুঝতে পারবেন একজন মায়ের আসল ক্ষমতা।

কিভাবে একজন মেয়ে থেকে মা হয়ে ওঠে কতটা কষ্ট সহ্য করে। তার নাম সিসা। নিজের সন্তানকে মানুষ করবার জন্য নিজের পরিচয় বদলে দিয়েছেন তিনি। তার পাড়া-প্রতিবেশী থেকে আপনজনেরা সকলেই তাকে একজন পুরুষ হিসেবে চিনতেন। তার সন্তানের বাবার পরিচয় তিনি সমাজে থাকতেন। এভাবেই তিনি জীবনের তেতাল্লিশ বছর পার করে দিয়েছেন। আসলে বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তার সঙ্গে ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা।

তার স্বামী মারা যান একটি দুর্ঘটনায়। অথৈ জলে পড়েন সিসা। কি করবেন বুঝে উঠতে পারেননি। সন্তানকে মানুষ করবার তাগিদে ই তাকে পুরুষের মতন কাজ করতে হয়েছে। আসলে আমাদের সমাজে মেয়েদের পুরুষের সমান ক্ষমতা থাকলেও অধিকার নেই। আর সেই কারণেই পুরুষের রূপ নিয়ে কাজ করা শুরু করেন সিসা।

শিক্ষা দীক্ষার কোন যোগ্যতা ছিল না সিসার। তাই কোন ভাল চাকরি করবেন সেই ব্যাপারে ধৃষ্টতা দেখাননি। অন্যান্য পুরুষদের মতই তিনি মাথায় পাগড়ি বেঁধে নিজের রূপ বদলে নেন। শাড়ির বদলে পড়তেন জিন্স এবং টি শার্ট। এভাবেই তিনি ঘুরে বেড়াতেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। তার মূল কাজ ছিল জুতো সেলাই এবং জুতো পালিশ করা।

তবে একজন মেয়ে হয়ে ছেলে সেজে থাকতে অনেক কষ্ট হতো তার। সন্তানকে মানুষ করার জন্য এমনটা করতেই হবে তাকে নইলে বাইরে বেরোতে পারবেন না। প্রথমেই তার বাপের বাড়ির লোকজন চেয়েছিলেন তাকে আবার বিয়ে দিতে। কিন্তু স্বামীর প্রতি দায়বদ্ধতায় তিনি আর বিয়ে করেননি। এরপর তার পরিবার তার কাছ থেকে সরে যায়।

এখন সিসার বয়স ৮৫ বছর। মিডিয়াতে রীতিমত পরিচিত তিনি। প্রথমবার তার এই ঘটনার কথা প্রকাশে আসে ফেসবুকের মাধ্যমে। সন্তানের জন্য এমন আত্মত্যাগ দেখে তাকে মিশর সরকার কুর্নিশ জানিয়েছে। দেশের সেরা মা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। সিসা মনে করেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার তার সন্তান।