গ্রামে ঘুরে সাইকেলে কাপড় বিক্রি করতেন বাবা! NEET পাশ করে ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পেল ছেলে

যত দিন যাচ্ছে ততই মানুষ যেন আরো বেশি এই ডিজিটাল দুনিয়ার ওপরে নির্ভর হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন ওরা স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখে নতুন ভোরের।

স্বপ্ন দেখে ভালো মানুষ হওয়ার, বড় ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু অত অর্থ কোথায় যে পড়াশোনা চালাবে, এই প্রশ্ন যখন মনের মধ্যে উঁকি দিত তখন কিন্তু ভয়ে পিছু পা হয়নি ওরা।

শত অভাবের মধ্যেও চালিয়ে গিয়েছে নিজেদের পড়াশোনা। তাই হয়ত কোনও বাধাই আর তাঁদের পথ আটকাতে পারেনি। নিট পরীক্ষায় র্যাঙ্ক করল জেলার দুই ছেলে। সাইকেলে করে গ্রামে গ্রামে জামাকাপড় ফেরি করে বিক্রি করেন মুর্শিদাবাদ জেলার সমশেরগঞ্জের যাদবনগরের বাসিন্দা বাণী ইসরাইল। তাঁর বড় ছেলে শাহিদ আনোয়ার ডাক্তারির ছাত্র, ভেবেছিলেন অন্য জনকেও ডাক্তারি পড়াবেন। সেই স্বপ্নই সফল হল। মেজো ছেলে সোহেল আনোয়ারও এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেল। বুধবার প্রকাশিত অভিন্ন জয়েন্ট (নিট) পরীক্ষার ফলে দেখা গিয়েছে, সারা ভারতে ডাক্তারির প্রবেশিকায় সোহেলের র‌্যাঙ্ক রয়েছে ১২ হাজার ৫৫০। প্রাপ্ত নম্বর ৬১৬। দুই ভাইয়ের সাফল্যে খুশির জোয়ার যাদবনগরের গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে।

মালদার গাজোল ব্লকের মসজিদ পাড়ার ছাত্র ইনজামামুল হক। তাঁর বাবা আনওয়ারুল হক চা বিক্রি করেন। অন্যজন হরিশ্চন্দ্র পুর ১ ব্লকের মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভবানীপুর গ্রামের সাবির আলি। তাঁর বাবা শেখ সোলেমান।তিনি রাস্তার ধারে ফল বিক্রি করেন। সাবির আলির প্রাপ্ত নম্বর ৬২৬। নিটে র‍্যাঙ্ক ৯৫২৬। অন্যদিকে ইনজামামুল হক পেয়েছে ৫৮৫। নিটে তাঁর র‍্যাঙ্ক ১৪২৫০।

গাজোল ব্লকের গাজোল মসজিদপাড়া এলাকার ছাত্র ইনজামামুল হক। তাঁকে সংবর্ধনা জানাতে ছুটে আসেন পাড়া পতিবেশি ও বন্ধু বান্ধবেরা। আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে ইনজামামুল সাফল্যে গর্বিত পরিবার সহ গোটা গ্রাম। সংসারে ‌রয়েছে স্ত্রী আর দুই ছেলে। অভাবের সংসারে চা বিক্রি করে কঠোর পরিশ্রম করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন তিনি।

সোমবার সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের ফলাফল প্রকাশিত হতেই আনন্দের জোয়ার ইনজামামুল হক এর ঘরে। ছেলের সাফল্যে আপ্লুত বাবা ও মা। ইতিমধ্যেই, ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট ইউজি-এর ফল প্রকাশিত হয়েছে সদ্য। সেই নিট ইউজি পরীক্ষায় রাজ্যের মধ্যে প্রথম হলেন বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দা সৌম্যদীপ হালদার।সোমবার রাতে সর্বভারতীয় এই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। বাঁকুড়ার সোনামুখীর শ্যামবাজারের ছাত্র সৌম্যদীপ হালদার সেই পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম এবং সারা ভারতে ১৯ তম স্থান অধিকার করেছে।